পাখিদের খাদ্য মজুদের গল্প

গ্রামবাংলায় বিশেষ করে আমন মৌসুমে ধানের জমিতে ইঁদুরের ব্যাপক বাস, কৃষকের বয়ানে সেটা উৎপাত-ই। সুড়ঙ্গ তৈরি করে এসময়টাতে তাদের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করে। মূলত খাদ্যসংগ্রহের সহজলভ্যতার কারণেই তারা ধানের জমি বেছে নেয়। ধানের শিষসমেত তারা খাদ্যমজুত করতে থাকে। এতে কৃষকের যথেষ্ট ক্ষতি হলেও, প্রকৃতি তো সবার জন্য উন্মুক্ত, সে তো বুঝে না কে মানুষ আর কে পশু আর কে পাখি। সবার জন্য দুহাত ভরে বণ্টন করে। প্রকৃতির এই খাদ্যভান্ডারে সবার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার থেকেই কৃষকের জমিতে ইঁদুরের বসবাস।

যখন ধান কাটা শেষ হয়, তখন ইঁদুরের সেই গর্তগুলো দেখা মেলে। আমাদের শৈশবে পাড়ার ছেলেমেয়েরা বাইশটা-কোদাল নিয়ে সেই গর্তগুলো খুঁড়তে খুঁড়তে গর্তে পেয়ে যেতাম অনেকগুলো ধানের শিষ। কখনো কখনো প্রতি গর্তে প্রায় আধা কেজি ধান পাওয়া যেত। যদিও এই গর্তখুঁড়ার কাজটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কেননা সাপের উপদ্রবও থাকতো সেসব গর্তে, তারপরেও এই কাজটাতে আনন্দ পাওয়া যেত। ঠাকুরগাঁওয়ে সাঁওতাল নৃতাত্ত্বিকগোষ্ঠী থাকায় আমরা দেখতাম ধানের এই মৌসুমটাতে তারাও আসতো। তবে তাদের উদ্দেশ্যটা ছিলো ভিন্ন। আমরা যখন ইঁদুরের গর্তে ধান সংগ্রহে ব্যস্ত, তাদের আগ্রহ ছিলো ইঁদুর শিকার। অবশ্য যখন ওরা ইঁদুর শিকার করতো, তারা আমাদের সবাইকে জমি থেকে বেশ দূরে সরিয়ে দিতো। কারণ তারা তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করতো।

এখন অবশ্য এসব দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। প্রথমত কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। বিভিন্ন কীটনাশক ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ইঁদুর ও ক্ষতিকর পোকামাকড় নির্মূল করা হয়।

শৈশবে আশ্চর্য্য হতাম এই ভেবে যে, ইঁদুরও মানুষের মত তার ভবিষ্যৎ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কতটা সচেতন। খাদ্যমজুদের এই ব্যাপারটা শুধু ইঁদুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, কাঠবিড়ালীও খাদ্য সংগ্রহ করে মজুদ করে রাখে। পৃথিবীতে অনেক পশুপাখিদের খাদ্যমজুদের বিষয়টা লক্ষ্য করা যায়।

তবে এসব খাদ্যমজুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিক ও আশ্চর্য্যকর লেগেছে অ্যাকর্ন কাঠঠোকরাদের সংগ্রহপদ্ধতি। এই কাঠঠোকরা পাখিটা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শীতপ্রধান বনাঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়, যেখানে অ্যাকর্ন গাছের প্রাচুর্যতা বেশি। কারণ অ্যাকর্ন গাছের ফর যেটি ‘ওক’ নামে পরিচিত, দেখতে

অ্যাকর্ন ফল (শীতকালীন দেশে জন্মে। ‘ওক’ নামক গাছের ফল, দেখতে বাদামের মত)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *