দেহ ধর্মীয়করণ ও কিছু কথা

প্রতিটা ধর্মই নিজেদের ধর্মকে অন্যান্য ধর্মের চাইতে পৃথক করার জন্য বেছে নিয়েছে তাদের ‘দেহ’। শুনতে অদ্ভূত লাগলেও এটাই সত্যি। এই দেহকে তারা তাদের মত ড্রেসকোড দিয়ে সাজিয়েছে। দাঁড়ি-চুলেও পৃথক “শেপ/ডিজাইন” এনেছে।

তাই কে কোন ধর্মের তা বুঝাতে এই দেহই হয়ে গেছে মুখ্য। অথচ একজন ধার্মিকের পরিচয় পাওয়ার কথা তার ‘চরিত্রে‘, ‘দেহ‘-এ নয়।

ধর্ম ধারণ করতে হয় চরিত্রে। যে ধার্মিক চরিত্র বাদে ধর্মকে দেহে ধারণ করে সে কখনোই প্রকৃত ধার্মিক নয়।

তাই বলে বলছি না দেহের জন্য পোষাকের প্রয়োজন নেই অথবা দাঁড়ি-চুলের গুরুত্ব নেই। মানুষ সৃষ্টির সেরা। মানুষের সভ্যতা, আত্মসম্মানবোধ, রুচিবোধ আছে। আর পোষাক তার মধ্যে অন্যতম ভূমিকা রাখে। তাই ইসলাম ধর্মে সুন্দর পোষাক পড়তে উৎসাহ করা হয়েছে। যে পোষাক মানুষকে সভ্যতা, ভদ্রতা, আত্মসম্মানবোধ, পরিচ্ছন্ন রুচিবোধ শেখায় সেই পোষাকই তাকওয়ার পোষাক। আর যে পোষাকে এসবের বিপরীত ও অহংকারবোধ শেখায় সেই পোষাক কখনোই তাকওয়ার পোষাক হতে পারে না।

ইসলামে পোষাকের ব্যাপারে এটাই মূলনীতি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, কালক্রমে পোষাকের এই মূলনীতি ছেড়ে আজ নির্দিষ্ট ড্রেসকোডে পরিণত হয়েছে, যেমনটি অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দাঁড়ি-চুল এসবের ব্যাপারেও একই কথা।

যেটা মুখ্য অর্থ্যাৎ ধর্মের আদর্শ অনুযায়ী চরিত্র গঠন, সেটা আজ কমগুরুত্বপূর্ণ। আর যেটা মুখ্য নয় অর্থ্যাৎ দেহকে সাজানো, সেটাই আজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে কী হয়েছে? আপনার দৃষ্টির আশেপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকান। চিনতে পারছেন কে ভালো কে মন্দ? মানুষের ভিড় আজ গোলকধাঁধা। সমাজের সবচাইতে বড় ঘুষখোর, সুদখোর, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিটি দেহকে ধর্মীয়করণ করে ভালো মানুষ সেজে মসজিদের প্রথম কাতারে নামাজ পড়ছে।

এই যে দেহকে ধর্মীয়করণ তার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে কতটুকুন?

আল্লাহর সামনে সকল মানুষকে দাঁড়াতে হবে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় – কোনো কাপড় থাকবে না এবং খতনাবিহীন।

[হাদিস রেফারেন্স: ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), পরিচ্ছেদঃ ২৭২৬. হাশরের অবস্থা, হাদিস নং ৬০৮০]

এই দেহকে আমরা যেভাবে সাজিয়েছি, আল্লাহর কাছে সেভাবে নিয়েই যেতে পারবো না। আমাদের ‘আমার’ বলে যা থাকবে সেদিন, সেটা শুধুই ‘আমার চরিত্র, আমার কর্ম’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *