ভূদখলের রাজনীতি

এই পৃথিবীর ভূখন্ডে সকল ধর্মের-বর্ণের-জাতির সমান অধিকার আছে এবং ঐতিহাসিকভাবেই। ইহুদি বলেন আর রোহিঙ্গাই বলেন কেউই হঠাৎ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েনি। ওরা ‘লোকাল’, এরা ‘অরিজিন’ — এসব বালখিল্য বিশ্বাস আর বক্তব্য নিজের অহমিকা ও অজ্ঞতার তাকে সাজিয়ে রাখুন। এ পৃথিবীতে সবাই সর্বত্র লোকাল, সবাই অরিজিন, সবাই এক মা-বাবার সন্তান।

যখনই পৃথিবীর ভূখন্ডকে কাঁটাতার-প্রাচীর দিয়ে খন্ড-বিখন্ড করে জাতীয়তাবাদে আবদ্ধ করা হলো, শুরু হলো জাতিগত শাসন, সংখ্যালঘুর উচ্ছেদ-বাস্তুহারা, অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপক্ষগুলো দ্বারা ভূখন্ড দখল, ভূ-রাজনীতি, অস্ত্রব্যবসা। ন্যায়-অন্যায়ের ঊর্ধ্বে ঠাঁই পেলো জোর করে জাতিগত টিকে থাকার প্রচেষ্টা, পক্ষপাতদুষ্ট জাতীয়-আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মিডিয়ার প্রচারণা, মানবতার মোড়কে পৃথিবী শাসনের নামে শোষণ। সত্যিকার্থে এ পৃথিবীতে এখন ন্যায়-অন্যায়-মানবতা-সত্য-সুবিচার বলে কিছুই নেই; যা আছে তা কাঁদা-মাটি-পাথরে গড়া ফলের ন্যায়; যা দেখতে সুমিষ্ট কিন্তু আহার্য নয়।

পাথরে গড়া এ ফলগুলো সাজানো পসরার ন্যায় গুরুত্ব পায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে, ধর্মীয় নেতার আস্ফালনে, আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ব্রিফিংয়ে কিন্তু বাস্তবতা হলো — তা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ নিয়ে মরণখেলায় মেতে আছে বিশ্বরাজনীতি। সে আগুনে ঘি ঢেলেছে ধর্মের রাজনীতি। যতদিন এই বিদ্বেষ থাকবে, যতদিন এই কাঁটাতার থাকবে, ততদিন পৃথিবীর ভূখন্ড জ্বলবে, মানুষের রক্তে সিক্ত হবে।

©ইলিয়াস আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *